নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে দেখা গেল বিহারের রাজধানী পাটনায়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে ২০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অশান্তির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিন সকাল থেকেই গান্ধী ময়দানে বহু ছাত্র-যুব একত্রিত হন। পরে সেখান থেকে মিছিল শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা লোক ভবনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকানোর জন্য ব্যস্ত ডাকবাংলো মোড়ে ব্যারিকেড তৈরি করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে জানা যায়। এর জেরে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
অশান্তির মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি শহরের বীরচাঁদ প্যাটেল মার্গ এলাকায় বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ের সামনে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভের জেরে বিধানসভার নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়। আন্দোলনকারীরা নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিধানসভা চত্বর ঘিরে ফেলা হয়। অধিবেশন শেষ হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সময়ের জন্য বিধায়ক ও অন্যান্য সদস্যদের ভবনের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কারণেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। আইসা-র নেতা এবং বিধায়ক সন্দীপ সৌরভ বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় সরকারের গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে দিল্লির পর এবার পাটনাতেও ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে, পাটনার ঘটনাই তার বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


