রাজ্যে সরকার গঠনের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই বিজেপির অন্দর থেকে উঠল গুরুতর অভিযোগ। বুধবার বর্ধমানে সাংবাদিক বৈঠক করে দলেরই কয়েকজন নেতা-কর্মী দাবি করেন, কিছু বিজেপি নেতা জোর করে টাকা আদায় করছেন। শুধু বালিখাদ নয়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও টাকা চাওয়ার অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
প্রবীণ বিজেপি নেতা মনোজকুমার চক্রবর্তীর অভিযোগ, এসবের প্রতিবাদ করায় তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। এমনকি তাঁকেই দল থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি বারবার নেতৃত্বকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদেরই রক্ষা করা হচ্ছে।
মনোজবাবুর কথায়, তিনি দীর্ঘদিন বিজেপি করেছেন, জেলও খেটেছেন, হামলার মুখেও পড়েছেন। সরকার বদলের পর পরিস্থিতি পাল্টাবে ভেবেছিলেন। কিন্তু এখন দলের একাংশের আচরণে তিনি হতাশ। আরেক বিজেপি নেতা বুদ্ধদেব দাসও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই বিজেপির মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও জিতেন্দ্র তিওয়ারি দলীয় কর্মীদের চাঁদাবাজি থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। জিতেন্দ্র তিওয়ারি সতর্ক করে বলেছিলেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দলেরই ক্ষতি হবে।
এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দলের এক নেতা দাবি করেছেন, সাংবাদিক বৈঠক করা কয়েকজনের বিরুদ্ধেই আগে থেকেই অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল ও কংগ্রেস বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করেছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু এবং কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার, দু’জনেই এই অভিযোগকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন।


