রাজস্থানে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের কায়দায় বুলডোজার রাজনীতির দাপট শুরু হয়েছে। এবার জয়পুরের জগৎপুরা এলাকায় রাস্তা চওড়া করার নামে চরম আগ্রাসী মেজাজে উচ্ছেদ অভিযান চালাল প্রশাসন। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে গোটা এলাকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে এবং মাথার উপর ড্রোন উড়িয়ে কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ এবং ক্ষোভকে দমন করতে ৩ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করে এই উচ্ছেদ চালানো হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে আসলে মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানতেই এই স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি সরকার।
সোমবারের এই নির্মম বুলডোজার অভিযানে জগৎপুরার রেললাইনের সমান্তরাল রাস্তার উপরে থাকা ১৯৮১ সালে তৈরি নুরানি মসজিদ, স্বাধীনতার আগের প্রাচীন একটি মাজার, দুটি সনাতন মন্দির এবং একটি সৎ-সঙ্গ হল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, ওই রাস্তার প্রস্থ ৮০ মিটার করার জন্যই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বিধায়ক রফিক খান এবং আমির কাগঞ্জির মতো জনপ্রতিনিধিদের যুক্তি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে বিজেপি শাসিত প্রশাসন।
বিধায়কদের দাবি, ভাঙা পড়া নুরানি মসজিদটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থ ও আইনি নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছিল এবং ১৯৯৪ সালে এর জন্য সরকারি উন্নয়ন ফি-ও দেওয়া হয়েছিল। বিধায়ক আমির কাগজি জানান, তাঁরা রাস্তার সুবিধার্থে মসজিদ চত্বর ছোট করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও একরোখা প্রশাসন তা শোনেনি। কোনো রকম আলোচনার সুযোগ না দিয়ে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অধিকারকে বুটের তলায় পিষে দিয়ে বিজেপি সরকারের এই বুলডোজার নীতি জয়পুরে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

