উত্তরপ্রদেশে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে চরম ভোগান্তির ছবি সামনে এসেছে। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। কোথাও অতিরিক্ত ভিড়, কোথাও পর্যাপ্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে যাত্রা করতে হয়েছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষায় লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে বহু পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা হলেও পরীক্ষার্থীদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছনোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিকল্পনার অভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিভিন্ন রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ট্রেনের কামরাগুলি এতটাই ভর্তি ছিল যে দরজা দিয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছিলেন না যাত্রীরা। অনেক পরীক্ষার্থী বাধ্য হয়ে জানালা দিয়ে কামরার ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। লখনউয়ের চারবাগ স্টেশন থেকে এমন একাধিক দৃশ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছতে মরিয়া হয়ে নানা ঝুঁকি নিচ্ছেন। কেউ জানালার ফাঁক গলে ট্রেনে উঠছেন, আবার কেউ বাইরে দাঁড়িয়ে সুযোগের অপেক্ষা করছেন। এই পরিস্থিতি দেখে অনেকেই প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, এত বড় নিয়োগ পরীক্ষার আগে যাত্রীদের সম্ভাব্য ভিড় সম্পর্কে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
সামাজিক মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যঙ্গ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, পরীক্ষার আগে যেন চাকরিপ্রার্থীদের সহনশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার অনানুষ্ঠানিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ লিখেছেন, এমন পরিস্থিতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এবারের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত বেশি। কয়েক হাজার শূন্যপদের জন্য কয়েক লক্ষ নয়, প্রায় ত্রিশ লক্ষের কাছাকাছি পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই বিপুল অংশগ্রহণ দেশের বর্তমান কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, সরকারি চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়া এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাবের কারণেই এত বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতির ছবি সেই দাবির সঙ্গে কতটা মিলছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।


