নারীদের সুরক্ষা আর বেটি বাঁচাও আন্দোলনের বুলি আউড়ানো বিজেপির আসল কদর্য রূপ আবারও প্রকাশ্যে চলে এলো। দুর্গাপুরে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনায় এবার সরাসরি জড়িয়ে গেল এক বিজেপি বিধায়কের নাম। এই জঘন্য অপরাধের অন্যতম মূল চক্রী এবং কুখ্যাত নারী পাচারকারী যুবতী সিমরণ তামাংয়ের ফেসবুক প্রোফাইলে গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্রের সঙ্গে একাধিক ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও দেখা গিয়েছে। এমনকি বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দিন ওই নারী পাচারকারীকে বিজেপির বিজয়োল্লাসে সামনের সারিতে মেতে উঠতে দেখা যায়। এই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপির দ্বিচারিতা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাম ও তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনায় বিজেপির সরাসরি যোগসূত্র দাবি করে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। বিরোধীদের স্পষ্ট অভিযোগ, যারা নিজেদের সবচেয়ে আদর্শবাদী দল বলে দাবি করে, তাদের ছত্রছায়াতেই আসলে এমন অপরাধীরা ঘুরে বেড়ায়। একজন নারী পাচারকারীর সঙ্গে বিজেপি বিধায়কের কী গোপন সম্পর্ক, তা নিয়ে সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। এই ঘটনায় বিজেপির নারী সুরক্ষার সমস্ত ফাঁকা দাবি ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।
এদিকে নির্যাতিতা নাবালিকা ছাত্রীটির শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনজন যুবক মিলে তাকে বারংবার ধর্ষণ করায় সে তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, ধৃত সুন্দরী যুবতী সিমরণ তামাং মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানিয়ে মেয়েদের আকৃষ্ট করত এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হোটেল ও ট্যুরিস্ট স্পটে নাবালিকাদের দেহব্যবসায় নামাত। সে-ই ভুল বুঝিয়ে এই নাবালিকাকে দুর্গাপুরে এনে টাকার বিনিময়ে কামুকদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এই ঘটনায় খোদ বিজেপি বিধায়কের যোগসূত্র মেলায় মোদী ও শাহের দল এখন চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে।


