রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য সমীকরণ। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর কি আবার কংগ্রেসে ফিরতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? যদিও এই বিষয়ে কোনও পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিভিন্ন সূত্রের খবর ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের পর থেকেই নানা ধরনের জল্পনা ছড়াতে শুরু করে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
এই জল্পনার নেপথ্যে আরও একটি রাজনৈতিক সমীকরণের কথা উঠে আসছে। সূত্রের দাবি, তৃণমূলের একাংশ সাংসদ ও বিধায়ক দল থেকে আলাদা অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী তৈরির উদ্যোগ নিতে পারেন বলেও খবর। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দলের অস্তিত্ব ও সংগঠনকে রক্ষা করাই তৃণমূল নেতৃত্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে কংগ্রেসের অন্দরেও এই সম্ভাবনা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। দলের একাংশ মনে করছে, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে হলে সব বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে আসতে হবে। আবার অন্য অংশের নেতাদের প্রশ্ন, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি বা অন্যান্য অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের দলে নেওয়া উচিত কি না।
প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, রাজনীতি সবসময় পরিবর্তনশীল এবং ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা সময়ই বলবে। তবে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করতে চান এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত, তাঁদের স্বাগত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এই প্রসঙ্গে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেস থেকেই হয়েছিল। তিনি যদি আবার কংগ্রেসে ফেরেন, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হবে। তবে সবকিছুই এখনও জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহল এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে।


