মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গের তিন মহিলা ও এক শিশুকে আটকে রাখার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক। তবে পরিবারের দাবি, তাঁরা সকলেই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভারতীয় নাগরিক।
জানা গিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছে থাকা পাসপোর্ট ও আধার কার্ড পুলিশ জব্দ করেছে। পুলিশের দাবি, ওই নথিগুলির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁদের এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর মহিলা যুব শাখার নেত্রী রুবিনা আমর প্যাটেলের উদ্যোগে। স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি জানার পর তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা পশ্চিমবঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে থেকে জানানো হয়, আটক মহিলারা সত্যিই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে।
এত কিছুর পরেও থানে পুলিশ তাঁদের মুক্তি দিতে রাজি হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নথিগুলির পূর্ণাঙ্গ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন রুবিনা আমর প্যাটেল। তাঁর দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছে থাকা নথিগুলি ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তা সত্ত্বেও তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা প্রশ্নের মুখে ফেলছে প্রশাসনের ভূমিকা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র ভাষা, পোশাক বা চেহারার ভিত্তিতে কাউকে বিদেশি বলে সন্দেহ করা উচিত নয়।
এআইএমআইএম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়াইসি ও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনও ব্যক্তিকে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে বা তাঁর চেহারা দেখে বাংলাদেশি বলে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়। আইন মেনে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত থানে পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আটক চারজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে সুবিচারের আবেদন করেছেন।


