পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংরক্ষিত আসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন সাধারণ নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। এছাড়া বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে ১২টি আসন কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের এই যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, যাঁরা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে বসবাস করেন না, তাঁদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার খর্ব করছে।
এই দাবিকে সামনে রেখে সংগঠনটি রাজধানী মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে একটি পদযাত্রার ডাক দেয়। তবে প্রশাসন ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনে। সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পরও হাজার হাজার মানুষ আন্দোলনে যোগ দেন। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্রের দাবি, ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিয়ে একটি বিশাল মিছিল রাওয়ালাকোটের কাছে পৌঁছেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালাকোটে নজরদারির জন্য হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকেও সতর্কতামূলক ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং ব্যাপক গ্রেফতারের ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
তবে আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে যেতে রাজি নন। তারা সাধারণ ধর্মঘটের ডাকও দিয়েছে। মুজাফফরাবাদের অনেক দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর একটি স্বশাসিত অঞ্চল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবার সংরক্ষিত আসন নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন নতুন করে অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।


