দেশে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ঘাটতি চলার মধ্যেই তাদের দাম বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। একই সঙ্গে টিটেনাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকার মূল্যও বৃদ্ধি পেতে চলেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রোগী এবং তাঁদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে বহু হাসপাতাল ও বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। ফলে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমস্যার মুখে পড়ছেন বহু রোগী। বিশেষ করে কেমোথেরাপির জন্য দরকারি কিছু ওষুধের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এমন অবস্থায় কেন্দ্রীয় অনুমোদনের পর ওষুধের মূল্য সংশোধনের পথে এগিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু কয়েকটি ওষুধেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত একাধিক ওষুধের দামও এর ফলে বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জেরে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ফুসফুস, জরায়ুমুখ, ডিম্বাশয়, মূত্রথলি, মাথা ও গলার ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু বহুল প্রচলিত ওষুধের চাহিদা বর্তমানে অনেক বেশি। কিন্তু উৎপাদন ও সরবরাহ সেই হারে না হওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ওষুধের জোগান সেই অনুপাতে বাড়েনি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত ৮২ ধরনের ওষুধের দামে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মাত্র কয়েকটি মূল ওষুধের ক্ষেত্রে, তবে সেগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি বহু ওষুধের দামও বাড়বে। ফলে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার খরচ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতি বছর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব ওষুধ শিল্পেও পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
তবে সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, যখন প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না, তখন মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল রোগীদের জন্য এই বাড়তি খরচ নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।


