ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার নজিরবিহীন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় ধারাবাহিক দুর্নীতির প্রতিবাদে এবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের ডাক দিল কক্রোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সরকারের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করতে ভয় পায় না, দেশের এমন হাজার হাজার প্রতিবাদী তরুণদের একত্রিত করে গত সপ্তাহে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এই সংগঠনটি। এবার তারা সরাসরি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ২০ জুনের মধ্যে যদি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তাঁর পদ থেকে ইস্তফা না দেন, তবে দিল্লির যন্তর-মন্তরের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘটে বসবে দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ।
একটি ব্যাঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া পেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিজেপি এখন একটি জাতীয় স্তরের ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষা দুর্নীতির এই জাতীয় সমস্যা দেশের কোটি কোটি পরীক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার দায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিতেই হবে এবং শীর্ষস্তর থেকে জবাবদিহি না মেলা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। দিল্লির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এই আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ, ১১ জুন পুনে থেকে শুরু করে একে একে লখনউ, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু, জয়পুর ও হায়দরাবাদেও বড়সড় বিক্ষোভ প্রদর্শনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে পুনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন বিশিষ্ট জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁরা এই লড়াই জারি রাখবেন। ২০ জুন দিল্লির বুকে যুবসমাজের এই ঐতিহাসিক জমায়েতকে সফল করতে দেশের সমস্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যতক্ষণ না সরকার এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে এবং শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ তারা আন্দোলনস্থল থেকে একচুলও নড়বে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে।


