তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। কয়েক দিন ধরেই তাঁর পদত্যাগের জল্পনা রাজনৈতিক মহলে ঘুরছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের পদ ছাড়েন। এর ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি আরও কমে গেল।
দলের একাধিক সাংসদের পদত্যাগের ধারাবাহিকতায় কোয়েলের নাম যুক্ত হওয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও তাঁদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কোয়েলের পদত্যাগের পর রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও কিছু সাংসদ একই পথে হাঁটতে পারেন।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং একাংশের মধ্যে দূরত্বও তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতির প্রভাব সংসদের দুই কক্ষেই পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
লোকসভায়ও দলের কিছু সাংসদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। একইভাবে রাজ্যসভাতেও অসন্তুষ্ট সদস্যদের একাংশ আলাদা অবস্থান নেওয়ার পথে এগোচ্ছেন বলে সূত্রের দাবি। তবে রাজ্যসভার সাংগঠনিক কাঠামোর কারণে একসঙ্গে বড় ধরনের বিভাজন ঘটানো সহজ নয়। তাই অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগের পথ বেছে নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার জন্য যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে কোয়েল মল্লিকের নাম অন্যতম চমক ছিল। রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তিনি সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে শপথও গ্রহণ করেন। সেই সময় জনসেবার সুযোগ পাওয়াকে তিনি বড় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছিলেন।
কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পদত্যাগের কারণ নিয়ে কোয়েল মল্লিক প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করেননি, তবুও রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তাঁর সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। কোয়েল মল্লিকের এই পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


