ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইজরায়েলের কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে একাধিক মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা কারাবাসের সময়কার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পর মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।তথ্যচিত্রে কথা বলা দুই ফিলিস্তিনি যুবক, যাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, দাবি করেছেন যে জেলে থাকাকালীন তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিশেষ কিছু দিনে বন্দিদের পোশাক খুলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে অপমানজনক আচরণ করা হতো। শুধু তাই নয়, যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় কিছু নারী কারারক্ষীও জড়িত ছিলেন।একজন প্রাক্তন বন্দি জানান, নির্যাতনের সময় বন্দিদের হাত-পা বেঁধে রাখা হতো এবং তাঁদের আর্তনাদকে উপহাস করা হতো। অন্য এক বন্দির দাবি, তাঁর ওপর এক নারী নিরাপত্তাকর্মী দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নিপীড়ন চালান, আর আশপাশে থাকা অন্য কর্মকর্তারা পুরো ঘটনাটি দেখেন ও ভিডিও ধারণ করেন।মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আগে থেকেও ছিল। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এসব ঘটনার মাত্রা অনেক বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রাষ্ট্রসংঘ সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইজরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করে।এদিকে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি সামরিক শিবিরে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নিপীড়নের ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করা হলেও পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে ইজরায়েলের ভেতরেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।রাজনৈতিক মহলের কিছু বক্তব্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, কিছু নেতা এমন মন্তব্য করেছেন যা মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজে বলেন, নির্যাতন বা দমন-পীড়নকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ করতে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের মানবিক মর্যাদা খাটো করে দেখানো হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইজরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণের অভিযোগ নারী কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে! আল জাজিরা তথ্যচিত্র প্রকাশ হতেই আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা
Popular Categories


