পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা তৈরি করে আমেরিকার আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দিল ইরান। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তীব্র হামলা চালায় তেহরান। ইরানের এই আকস্মিক সামরিক অভিযানের জেরে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কিছু সময়ের জন্য সমস্ত বিমান ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগেই ইরানের অন্য একটি হামলায় কুয়েত বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়।
অন্য দিকে সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আমেরিকার ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়াতে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন চাল চেলেছে ইরান। দেশটির সংবাদমাধ্যমের দাবি, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত মালবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ ইতিমধ্যে এই প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছিল, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেগুলোকে আপাতত সাগরের মাঝেই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক হুঁশিয়ারির পর। তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরান একটি চুক্তিতে আসার জন্য অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে। চুক্তি করলে তাদেরই লাভ হতো, কিন্তু এখন তাদের এই ভুলের জন্য বড় মূল্য চোকাতে হবে। এই বার্তার পরপরই আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসী মনোভাবের মোকাবিলা করতেই তারা এই পদক্ষেপ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের সেই হামলার পর ইরান যেভাবে পাল্টা আঘাত হানল, তাতে এই অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করল।


