বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর এবার চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি। কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজেদের দলের সহ-সভাপতিকে কালিমালিপ্ত করতে ভুয়ো শোকজ চিঠি তৈরি করে তা বাজারজাত করার নোংরা খেলায় মেতেছে পদ্ম-শিবিরের একাংশ। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয়কৃষ্ণ প্রধানের নামে এই জাল চিঠি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপির অন্দরের কদর্য রূপটি খোলসা হয়ে গিয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই কেশপুরের বিজেপি নেতা তথা বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী শুভেন্দু সামন্তকে দলবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগে আসল শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। ঘরোয়া কোন্দলের সুযোগ নিয়ে একদল বিজেপি কর্মী সেই আসল চিঠির রেফারেন্স নম্বর ও ভাষা হুবহু জাল করে সহ-সভাপতি অজয়কৃষ্ণ প্রধানের নামে একটি ভুয়ো শোকজ নোটিস বানিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনা ফাঁস হতেই জেলা বিজেপি নেতৃত্বে চরম অস্বস্তি ও হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। স্বয়ং অজয়কৃষ্ণবাবু ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, এই চিঠি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং দলেরই কিছু কুচক্রী ব্যক্তি তাঁর ডানা ছাঁটতে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে। জেলা সভাপতি তন্ময় দাসও চিঠির সত্যতা উড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেশপুরে তৃণমূলের শক্তি অপরিসীম এবং সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সেখানে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই হারের পর থেকেই বিজেপির আদি ও নব্য নেতাদের মধ্যে এলাকা দখল ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে কামড়াকামড়ি চরমে উঠেছে। নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে এবং অন্য গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করতে বিজেপির নেতারাই এখন একে অপরের পিঠে ছুরি মারছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে দেয় যে, মানুষের জন্য কাজ করা নয়, বরং ক্ষমতার লোভ আর অন্তর্কলহেই ডুবে রয়েছে বিজেপি।


