ধর্মের নামে বিপুল টাকা তুলে তা নিজেদের পকেটে ভরার অভিযোগ এবার উঠল খোদ অযোধ্যার রামমন্দিরে। রামলালার দানের কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করার এই বিরাট কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই চরম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তোপ দেগে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন, রামমন্দিরে দানের টাকা লুঠ করা হয়েছে। সত্য সামনে আনতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আদালতের কাছে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তবে নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে বরাবরের মতো এবারও এই গুরুতর অভিযোগকে স্রেফ এড়িয়ে যাওয়ার নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে বিজেপি।
এই চরম বিতর্কের আবহেই এবার আসরে নামতে বাধ্য হলেন রামমন্দির ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস। মুখরক্ষা করতে তিনি পিঠ বাঁচানোর সুরে জানিয়েছেন, কোনো ভুলভ্রান্তি বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ্ব তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর মতে, যেভাবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ উঠছে, তাতে মানুষের মনে সংশয় দূর করতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। রামমন্দিরের এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির সত্যতা প্রথম ফাঁস করেন মহিপাল সিং নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে মন্দিরের হিসাবরক্ষক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মন্দিরে দান সংগ্রহে বিরাট অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে, যার সাথে মন্দির কমিটির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা সরাসরি যুক্ত। আর এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার অপরাধেই তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে রামের নাম করে এই বিপুল টাকা লুঠের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ময়দানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। নিজেদের দলের বড় নেতাদের আড়াল করতে তিনি অখিলেশ যাদবের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ভক্তির নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার এই যে অকাট্য প্রমাণ সামনে আসছে, বিজেপি সরকার তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন? লোকসভা ভোটের ধাক্কার পর রামমন্দিরের নামে এই বিপুল অর্থ লুঠের ঘটনা বিজেপির ভণ্ড ও দুর্নীতিগ্রস্ত রূপটাকেই ফের একবার দেশবাসীর সামনে এনে দিল।


