মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড়’ হামলা চালানোর মারাত্মক হুমকি দিয়েও আচমকা অবস্থান বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আপাতত ইরানের ওপর সমস্ত সামরিক আক্রমণ স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের শান্তিচুক্তি অনেকটাই এগিয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের। তবে এর আগেও ট্রাম্পের এমন একাধিক শান্তি বৈঠকের দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছিল।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার রাতে, যখন ট্রাম্প নিজের ‘ট্রুথ সোশাল’ হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘আজ রাতেই ইরানে বড়সড় হামলা চালাবে আমেরিকা। ওদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সিংহভাগ ইতিমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে।’ এমনকি ইরানের প্রধান তৈলভাণ্ডার খার্গ দ্বীপ দখল করে ভেনেজুয়েলার মতো তেল ও গ্যাসের পূর্ণ কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার চরম হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। কিন্তু এই রণহুঙ্কারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক ধাক্কায় সুর নরম করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের দ্বিতীয় পোস্টে তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আমেরিকার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন, তাই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমস্ত আক্রমণ আপাতত বন্ধ রাখছেন। তবে হরমুজ প্রণালী-সহ অন্যান্য জলপথে মার্কিন অবরোধ জারি থাকবে।
উল্লেখ্য, এই ঘোষণার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ বুধবার রাতভর ইরানে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে মার্কিন সেনা। সিরিক ও মিনাব-সহ ইরানের একাধিক শহরে আছড়ে পড়ে একের পর এক বোমারু বিমান। মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। পালটা জবাব দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় তেহরান। দুই পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই ট্রাম্পের এই আকস্মিক ‘ইউ-টার্ন’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নতুন মোড় এনে দিল। এখন ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণায় যুদ্ধ আদেও থামে কি না, সেটাই দেখার।


