পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজারহাট নিউ টাউন কেন্দ্রকে ঘিরে। একটি মুসলিম-প্রধান বুথে বিজেপির পক্ষে ৯৭ শতাংশ ভোট পড়ার দাবি সামনে আসার পর নির্বাচনী ফলাফল ও ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোডিয়া তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায়কে মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজারহাটের মুসলমান পাড়া এলাকার ১৬৪ নম্বর বুথ, যেখানে ভোট গণনার একটি পর্যায় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪ মে ভোট গণনার সময় ওই বুথের ভোট নবম রাউন্ডে গণনা করা হয়নি বলে অভিযোগ। মোট ১৮ রাউন্ডের গণনার মধ্যে ১৭ রাউন্ড শেষে তৃণমূল প্রার্থী ৩১৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। পরদিন ৫ মে শেষ রাউন্ডে শুধুমাত্র ১৬৪ নম্বর বুথের ভোট গণনা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ওই বুথে মোট ৬৫৬টি ভোটের মধ্যে বিজেপি ৬৩৭টি, তৃণমূল মাত্র পাঁচটি ভোট এবং সিপিএম পায় মাত্র ১টি ভোট। অর্থাৎ প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট বিজেপির ঝুলিতে যায়। এই ফলাফলের পর তৃণমূলের এগিয়ে থাকা ব্যবধান মুছে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী ৩১৬ ভোটে জয়ী হন।
এই ফলাফল নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, গণনার শেষ পর্যায়ের এই ফলাফল নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, একটি মুসলিম-প্রধান বুথে বিজেপির পক্ষে এত বেশি ভোট পড়ার ঘটনা তদন্তসাপেক্ষ এবং এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ একই এলাকার ১৬৫ নম্বর বুথে সম্পূর্ণ ভিন্ন ফলাফল দেখা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বুথেও মুসলিম ভোটারের সংখ্যাধিক্য ছিল। সেখানে বিজেপি মাত্র ৩২টি ভোট পায়, আর অধিকাংশ ভোট যায় তৃণমূল ও বাম প্রার্থীদের ঝুলিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ভোটের বড় অংশ তৃণমূল, কংগ্রেস, বামফ্রন্ট বা অন্যান্য বিরোধী দলের দিকে গেছে। ফলে একটি মুসলিম-প্রধান বুথে বিজেপির পক্ষে বিপুল ভোট পড়ার দাবি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে, ভোট গণনায় অনিয়ম বা ইভিএম কারচুপির অভিযোগের পক্ষেও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে রাজারহাট নিউ টাউনের ১৬৪ নম্বর বুথের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


