অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা নগদ অর্থ, সোনা-রুপো এবং মূল্যবান অলঙ্কার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মন্দিরের প্রাক্তন চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মহিপাল সিংয়ের বিস্ফোরক দাবি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মহিপাল সিংয়ের অভিযোগ, মন্দিরে দান করা অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব-নিকাশে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি তিনি মন্দির ট্রাস্টের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনলেও ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাঁকেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগের সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকতে পারে এমন সিসিটিভি ফুটেজের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
প্রাক্তন আধিকারিকের আরও অভিযোগ, ভক্তদের দেওয়া সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান দানসামগ্রীর কোনও স্বচ্ছ এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে প্রকৃত হিসাব যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও। তিনি দাবি করেছেন, মন্দিরে দানসামগ্রীর হিসাব সংক্রান্ত অনিয়মের পরিমাণ ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রা পেতে শুরু করেছে।
অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে।
ট্রাস্টের দাবি, দানবাক্স থেকে অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গুজবের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে বিষয়টির সঙ্গে দেশ-বিদেশের কোটি কোটি রামভক্তের আবেগ জড়িয়ে থাকায় সমস্ত সন্দেহ দূর করতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির গুজব নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করার লক্ষ্যেই ট্রাস্টের তরফে সিট তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।
এখন নজর উত্তরপ্রদেশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যে সিট তদন্ত গঠিত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


