রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলেও বহরমপুর পুরসভাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির কোনও তদন্ত হচ্ছে না বলে সরব হলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শনিবার দিল্লি থেকে ফিরে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিজেপির একাংশের মদতেই বহরমপুর পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে রয়েছে।
অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, “রাজ্যের প্রায় সমস্ত পুরসভায় দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বহরমপুর পুরসভায় কোনও তদন্ত হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত রহস্যজনক। এখানে কী ধরনের চুরি হয়েছে, তা সবাই জানে। বিজেপি নেতারাও জানেন। তবু বিজেপির একাংশ এই পুরসভাকে মদত দিয়ে চলেছে। সেই কারণেই দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেউ জবাবদিহির মুখে পড়ছেন না।”
এদিন তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রাক্তন সাংসদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুঁতো খেয়ে এখন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ছুটছেন। আগে নিপুণভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়ে চুরি হতো, আর এখন ডিজে বাজিয়ে চুরি হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।”
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর দাবি, দলের অনেকেই এখন সমস্ত সমস্যার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করছেন। তবে কেউ প্রকাশ্যে বলছেন না যে অভিষেককে সরিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আবার দল চালাতে চান। তিনি বলেন, “আলাদা আসনের দাবি, আলাদা নেতৃত্বের দাবি—এসব রাজনৈতিক নাটক বন্ধ হওয়া উচিত।”
এদিন আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন অধীর চৌধুরী। হরমুজ অঞ্চলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা স্বঘোষিত বিশ্বগুরু আমেরিকার সমালোচনা করতে পারেন না। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে এটাই তাঁর পার্থক্য। ইন্দিরা গান্ধী আমেরিকার সপ্তম নৌবহরকেও গুরুত্ব দেননি। অথচ আজ তিনজন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারালেও কেন্দ্রের অবস্থান নীরব।”
অধীর চৌধুরীর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতা লাল্টু দাস। তিনি বলেন, “অধীরবাবুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তবে কংগ্রেস আমলে ভারতের বিদেশনীতি কোথায় পৌঁছেছিল, সেটাও মনে রাখা দরকার। আজ ভারত বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।”
বহরমপুর পুরসভার দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার বক্তব্য, “আমিও চাই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। বিজেপির কোনও নেতা বা মন্ত্রী দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না। যদি কেউ দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের রক্ষা করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বহরমপুর পুরসভাকে ঘিরে নতুন করে ওঠা এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্তের দাবি জোরদার হওয়ায় আগামী দিনে প্রশাসন বা তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


