দীর্ঘ প্রায় ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি চালু হয়েছিল বিহারের বক্সার জেলার বহুল প্রতীক্ষিত রেল ওভারব্রিজ। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক দিনের মধ্যেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই সেতুর একটি পিলারের স্লাবে ফাটল ধরা পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুর উপর দিয়ে সমস্ত ধরনের যান চলাচল আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বিষয়টি নজরে আসার পরই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ মে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রথমে ফাটল ধরা পড়ার পর ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শুক্রবার থেকে ছোট গাড়ির যাতায়াতও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে সেতুর নির্মাণকারী সংস্থা বিহার রাজ্য পুল নির্মাণ নিগম লিমিটেড (বিআরপিএনএনএল)-এর দাবি, সেতুটির এখনও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি এবং সেখানে কিছু নির্মাণকাজ বাকি রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার বক্সারের জেলাশাসক সাহিলা নিজে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিআরপিএনএনএল এবং রেলওয়ের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পূর্ব-মধ্য রেলের দানাপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার উৎপল কান্ত জানান, নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তাঁর দাবি, সেতুর কিছু অংশ কাঠামোগত ঝুঁকি নিয়েই তৈরি করা হয়েছিল।
রেলওয়ে এবং বিআরপিএনএনএল-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই রেল ওভারব্রিজটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। প্রায় ২৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই পিলারের স্লাবে ফাটল ধরা পড়ায় প্রকল্পের গুণমান এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, নির্মাণে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা গাফিলতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।


