দীর্ঘদিনের সংঘাত ও পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার আবহের মধ্যেই নতুন আশার বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রবিবারই ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হতে পারে। শুধু তাই নয়, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “চুক্তিটি রবিবার স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার অবসান ঘটতে পারে শীঘ্রই।
গত প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, বিভিন্ন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, রাসায়নিক দ্রব্য এবং সার সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ট্রাম্পের আশাবাদের বিপরীতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরান। শনিবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রবিবারই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই। যদিও তিনি সম্পূর্ণভাবে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে এমন ইঙ্গিত দেননি। তাঁর বক্তব্য, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনও সমঝোতা হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ আধিকারিক, যিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন যে আলোচনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রথমত হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত, ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা এগিয়েছে।
ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম ধ্বংস ও নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিনিময়ে ইরানকে আর্থিক সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে—এমন জল্পনা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।
যদিও এখনও পর্যন্ত চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ্যে আসেনি, তবু ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল, জ্বালানি বাজার এবং বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে শুধু পশ্চিম এশিয়াতেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


