উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার মহম্মদি এলাকায় এক বয়স্ক মুসলিম হকারকে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করতে করতে ওই বয়স্ক হকারকে বারবার ‘জয় শ্রী রাম’ সহ একাধিক ধর্মীয় স্লোগান উচ্চারণ করতে বলছেন। ভিডিওতে হকারকে দৃশ্যত অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দেখা যায়। তিনি প্রথমে অনীহা প্রকাশ করে যুবককে ক্যামেরা বন্ধ করার অনুরোধ জানান। এক পর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনি ফোনটা বন্ধ করুন, আমি বলব।” তবে অভিযোগ, এরপরও ভিডিও রেকর্ডিং বন্ধ না করে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি স্লোগান উচ্চারণ করতে বাধ্য হন।
https://x.com/TheRFTeam/status/2065671233963020753
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বিব্রত ও অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় প্রকাশ করে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ট্যাগ করে বহু পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়রানি এবং সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টির দিকে নজর দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, মোহাম্মদি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আইনি দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর আবারও ধর্মীয় সহনশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্ন সামনে এসেছে। তদন্ত চলাকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশি তদন্তের অগ্রগতির উপর এখন নজর রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এই ঘটনায় কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট হবে।

