মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত পুণ্যভূমি শিরডিতে সাঁইবাবার দর্শনে গিয়ে এক অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও চাঞ্চল্যকর নিগ্রহের শিকার হলেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার এক ২০ বছর বয়সি তরুণী। অভিযোগের তির মন্দিরের সাঁইবাবা সংস্থান ভক্তনিবাসের এক অস্থায়ী সাফাই কর্মীর বিরুদ্ধে, যে সুযোগ বুঝে ওই তরুণীর সঙ্গে চরম অশালীন আচরণ করেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে নির্যাতিতার পরিবার, তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই সাফাই কর্মী সম্পূর্ণ বেপাত্তা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ৪ জুন বাবা-মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে শিরডিতে এসেছিলেন ওই তরুণী। তাঁরা মন্দিরের ভক্তনিবাসের একটি ঘর ভাড়া নেন। পরদিন সন্ধ্যার দিকে তরুণীকে ঘরে একা রেখে পরিবারের বাকি সদস্যরা মন্দির দর্শনে যান। ঠিক সেই সময় ওই সাফাই কর্মী এসে ঘরের বেল বাজায় এবং তরুণীর সঙ্গে কথা বলার বাহানায় ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। তরুণী তাকে সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি কোনো অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাকে চলে যেতে বলেন। চলে যাওয়ার আগে সাফাই কর্মী তরুণীকে জানায় যে সে ২০৪ নম্বর ঘরে রয়েছে। কিন্তু এর কিছু পরেই তরুণী ওই কর্মীর ঘরে যান এবং সেখানেই তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি কোনোক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে কেন তিনি অপরিচিত এক কর্মীর ঘরে একাকী গেলেন, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মনে কিছুটা সংশয় দানা বেঁধেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর আতঙ্কে তরুণী প্রথমে চুপ থাকলেও গত ১২ জুন সকালে পুরো বিষয়টি পরিবারকে জানান। বাড়ির লোকজন ভক্তনিবাসে গিয়ে ওই কর্মীকে ধরলে সে নিজের অপরাধ স্বীকারও করে, কিন্তু তার পরেই সুযোগ বুঝে সে এলাকা থেকে চম্পট দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, “অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং মন্দিরের অন্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ডেরার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।” পুণ্যভূমিতে বাংলার তরুণীর সুরক্ষায় এমন গলদ নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


