ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ছাত্রদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। এই আন্দোলনের সমর্থনে রাঁচিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়েছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র সভাপতি নেহা বোরা। তবে বক্তব্য রাখতে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে লক্ষ্য করে কালি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মুখ, গলা ও পোশাকে কালি লেগে যায়। তবুও তিনি মঞ্চ ছেড়ে না গিয়ে নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ করেন।
ঘটনার পরেই সেখানে উপস্থিত পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কেন এই হামলা করা হল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে নেহা অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএসের সমর্থকরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, শুধু তাঁকেই নয়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্তত ২০ জন মহিলা প্রতিবাদীর দিকেও কালি ছোড়া হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রতিবাদীদের অপমান করার চেষ্টা করা হলেও আন্দোলন থামবে না।
নেহা জানান, এই ঘটনার পরেও তিনি পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলকাতায় আসবেন। শনিবার শহরে আয়োজিত একটি ছাত্র সমাবেশে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিল, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) তুলে দেওয়া এবং নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হবে। প্রথমে মৌলালি যুবকেন্দ্রে সভার পরিকল্পনা থাকলেও অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত রামমোহন লাইব্রেরিতে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, রাঁচির ঘটনার একাধিক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবুও ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও ছাত্র মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে সম্প্রতি সরকারি চাকরির একাধিক পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করেছেন। গত ৫ জুলাই প্রাথমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই এই বিতর্ক শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রাঁচির জয়পাল সিংহ মুন্ডা স্টেডিয়ামের কাছে বহু ছাত্র ধর্নায় বসেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয় জন অনশনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে নেহা বলেন, অনশনে থাকা ছাত্রদের শারীরিক কষ্ট তিনি উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাঁদের দাবির প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
নেহার দাবি, যেসব পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া উচিত। আন্দোলনরত ছাত্রদেরও একই দাবি। ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ড সরকার ওএমআর শিট ফাঁসের অভিযোগে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া প্রয়োজন।


