কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিংড়িহাটা মোড়ে মেট্রো প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ চার বছর ধরে কেন থমকে ছিল, তা নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে নাম না করে রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করলেন তিনি। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানান যে, একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে এতদিন কলকাতার লাইফলাইন মেট্রোর কাজ আটকে রেখেছিল। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার সাথে সাথেই সেই সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় গতি এসেছে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো রুটের কাজে।
মূলত ই.এম বাইপাসের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মাত্র ৩৬৬ মিটার জায়গার আইনি জট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ালেও পূর্বতন শাসকদলের অনড় মনোভাবের কারণে কাজ এগোয়নি। কিন্তু বর্তমান বিজেপি চালিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই বাধা দূর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে চলমান উচ্ছেদ অভিযান এবং রেলের বেআইনিভাবে দখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধার নিয়েও রাজ্যপাল নতুন সরকারের কড়া পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা সরকারি জমি উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
যদিও পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ নিয়ে বামেদের একাংশ ও বিরোধী শিবির আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এবং কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিয়েছে, তবুও রাজ্যপাল সরকারের এই সিদ্ধান্তকে উন্নয়নের স্বার্থে ইতিবাচক বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে বাংলায় সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের দিশা দেখাবে। রাজ্যপালের এই চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক ভাষণ ঘিরে বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


