বিজেপি শাসিত হরিয়ানার ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলে দিনের শুরুটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই পরিবেশ বদলে যায় এক রক্তাক্ত ঘটনায়। মুখে মাস্ক পরে আসা এক যুবক স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে এক শিক্ষিকার সঙ্গে দেখা করতে চায়। শিক্ষিকা বাইরে আসতেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৯ বছরের শিক্ষিকা সন্ধ্যার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদাবাদের সিকরোনা গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ এক যুবক স্কুলে এসে শিক্ষিকা সন্ধ্যার খোঁজ করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানালে তিনি গেটের বাইরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যান।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত প্রথমে স্কুলের ভেতরে ঢুকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। এরপর শিক্ষিকাকে দেখতে পেয়ে বাইরে আসার ইশারা করে। সন্ধ্যা বাইরে বেরিয়ে আসতেই যুবকটি তাঁর গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে যায় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে মুখ, গলা ও বুকে ৩০টিরও বেশি কোপ মারা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চিৎকার শুনে স্কুলের এক প্রশাসনিক আধিকারিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাঁর দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে আসে। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি কিছুটা পিছিয়ে যান। এরপর অভিযুক্ত আবার মাটিতে পড়ে থাকা শিক্ষিকার উপর হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মোটরবাইকে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাইকটিতে কোনও নম্বর প্লেট ছিল না।
গুরুতর জখম অবস্থায় শিক্ষিকাকে দ্রুত আল ফালাহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। মাত্র দু’ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অমিত নামে ২১ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় দু’বছর আগে অভিযুক্তের সঙ্গে শিক্ষিকার পরিচয় হয়। এরপর থেকেই সে বারবার শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করত। কিন্তু শিক্ষিকা সেই সম্পর্ক এড়িয়ে চলতেন। অভিযোগ, যুবকটি দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অনুসরণ করত এবং বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সন্ধ্যা। সেই ঘটনার জেরেই প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


