মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইজ়রায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত অন্য কোনও দেশের নির্দেশে পরিচালিত হয় না। তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই দুই নেতার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কয়েক দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইজ়রায়েল তাঁর মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং তিনি যা বলবেন, তেল আভিভ সেই পথেই এগোবে। বিশেষ করে লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদী ছিলেন যে, তাঁর আহ্বানে সংঘর্ষের মাত্রা কমবে। কিন্তু বাস্তবে সেই চিত্র দেখা যায়নি।
এর পর রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেতানিয়াহু জানান, তাঁকে নিয়ে যেমন নানা ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তেমনই ট্রাম্পকে নিয়েও অনেক কথা বলা হয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র, এবং উভয় দেশের নেতৃত্ব নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। এক দেশের নেতা অন্য দেশের নির্দেশ মেনে চলেন— এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকজন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, ইরানকে ঘিরে চলা কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইজ়রায়েল ও হিজ়বুল্লার মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধ রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। উভয় পক্ষও তাতে সম্মতি জানিয়েছিল বলে খবর। কিন্তু সেই ঘোষণার পরও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই অবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে কূটনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ চলছে, তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মিত্র দেশ হলেও ইজ়রায়েল নিজের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেবে।


