মুম্বাইয়ের ভারসোভা সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিন গভীর রাতে এক ভিন্ন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরম ও বাসস্থানের কারণে বহু নিম্নআয়ের মানুষ নিজেদের ঘর ছেড়ে সমুদ্রের ধারে এসে রাত কাটাচ্ছেন। তাঁদের কাছে সৈকত এখন আর শুধু বেড়ানোর জায়গা নয়, বরং কিছুটা স্বস্তিতে ঘুমানোর আশ্রয়স্থল।
সুরেখা বাচ্ছে নামে এক গৃহকর্মী জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাড়িতে কাজ করেন। কিন্তু নিজের ছোট্ট ঘরে ফিরে গেলে অসহনীয় গরমে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রাতের দিকে সমুদ্রের হাওয়া খেতে সৈকতে চলে আসেন। তাঁর মতো আরও অনেক পরিবার একই পথ বেছে নিয়েছে।
ভারসোভার কাছে অবস্থিত সাগর কুটির বস্তিতে ছোট ছোট টিনের ঘরে বহু মানুষ বসবাস করেন। পর্যাপ্ত জানালা বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় গরমের সময় ঘরগুলির ভেতর অস্বস্তি চরমে পৌঁছায়। এ বছর মহারাষ্ট্রে বৃষ্টির ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
প্রতিদিন রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বস্তির বাসিন্দারা খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৈকতের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। কেউ মাদুর, কেউ চাদর বা পুরনো গালিচা সঙ্গে নিয়ে আসেন। সমুদ্রের ধারে নিরাপদ জায়গা বেছে নিয়ে সেখানেই রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেন। ভোর পর্যন্ত ঠান্ডা হাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে কিছু পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে সমুদ্রসৈকতে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে ‘অবৈধ দখল’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে সমাজের একাংশের বক্তব্য, যাঁদের নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, তাঁরাই শহরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। কেউ খাবার সরবরাহ করেন, কেউ পরিবহণ পরিষেবায় কাজ করেন, আবার কেউ বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সামলান। শহরের দৈনন্দিন জীবন সচল রাখতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতি শুধু গরমের কষ্টের কথাই তুলে ধরছে না, পাশাপাশি শহরে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার পার্থক্যও সামনে এনে দিচ্ছে। একদিকে যেখানে অনেকের ঘরে একাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র রয়েছে, অন্যদিকে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে সমুদ্রের হাওয়ার ভরসায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। মুম্বাইয়ের এই চিত্র এখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


