পুরুলিয়ার বলরামপুর কলেজে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের একমাত্র স্থায়ী অশিক্ষক কর্মী বিশ্বনাথ রুহিদাস অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কলেজের অধ্যক্ষা অনন্যা ঘোষের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের শিকার হয়ে আসছেন। তাঁর দাবি, তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ার কারণেই তাঁকে আলাদা চোখে দেখা হয় এবং নানা ক্ষেত্রে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে।
বিশ্বনাথ রুহিদাসের অভিযোগ, কলেজের প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে অধ্যক্ষার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলেও তাঁকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হত। এমনকি অধ্যক্ষার কক্ষে রাখা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রেও নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অধ্যক্ষা উপস্থিত থাকলে অনেক সময় তিনি কক্ষে প্রবেশ করতে পারতেন না। ফলে সুযোগ বুঝে পরে গিয়ে হাজিরা দিতে হত।
অভিযোগকারীর দাবি, এই পরিস্থিতি নতুন নয়। বহু বছর ধরে চললেও গত দেড় বছরে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি কলেজের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা দফতরের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা না হওয়ায় সম্প্রতি তিনি জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন এবং বলরামপুর থানার দ্বারস্থ হন।
জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। অন্যদিকে বলরামপুর থানাও অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করেছে।
বিশ্বনাথ রুহিদাসের দাবি, দীর্ঘদিনের এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এক সময় পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে তিনি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। যদিও পরিবারের কথা চিন্তা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, কলেজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপত্তি জানালে তাঁকে অপমানিত করা হত। এমনকি অবসর-পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধা নিয়েও তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এসব ঘটনার ফলে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন ও অসহায় মনে করতেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পর্কে অধ্যক্ষা অনন্যা ঘোষের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করেননি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


