বারাণসীর ডালমন্ডি এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ২ জুলাই থেকে পাঁচটি মসজিদের নির্দিষ্ট অংশ ভাঙার কাজ শুরু করেছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ডালমন্ডি রাস্তা চওড়া করার বৃহৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে। এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রশাসনের দাবি, প্রায় ২২৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল ডালমন্ডির ৬৫০ মিটার দীর্ঘ সরু রাস্তা প্রশস্ত করা। বর্তমানে যানজটের জন্য পরিচিত এই পথকে প্রায় ১৭.৪ মিটার চওড়া করা হবে। এর ফলে কাশী বিশ্বনাথ ধামের চতুর্থ প্রবেশদ্বারে পৌঁছনো সহজ হবে এবং মৈদাগিন-গোদোলিয়া রুটের দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য মোট ১৮৭টি সম্পত্তি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অধিগ্রহণের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি মসজিদও রয়েছে। বর্তমানে ল্যাংড়ে হাফিজ মসজিদ ছাড়া বাকি পাঁচটি মসজিদের নির্ধারিত অংশ ভাঙার কাজ চলছে। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিগুলি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ হস্তান্তরে সম্মতি জানিয়েছিল। ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে মহররমের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই এই কাজ শুরু করা হয়েছে।অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ১,৮৬০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীকে দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় পুলিশ, পিএসি, সিআরপিএফ এবং আরএএফের সদস্যরাও রয়েছেন। পুরো ডালমন্ডি এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে গোটা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২০০ শ্রমিক এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছেন, যাতে শুধুমাত্র রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় অংশই সরানো হয়। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পুরনো ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কয়েকটি স্থানীয় সংগঠন অভিযোগ করেছে যে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিকেই বেশি প্রভাবিত করা হচ্ছে।
Popular Categories

