প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে মোদী নকশালপন্থী চিন্তাধারার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি দেশে এখনও এই ধরনের মানসিকতা রয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যের পরই কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম পাল্টা আক্রমণ করেন।রবিবার সমাজমাধ্যমে চিদম্বরম লেখেন, তাঁকে যদি ‘দিমাগি নকশাল’ বলা হয়, তা হলে তিনি তাতেও গর্বিত হবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা করা মানুষদের একটি বিশেষ তকমা দিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সশস্ত্র মাওবাদী গোষ্ঠীর শক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকটাই কমেছে। তবে তাঁদের মতাদর্শের প্রভাব এখনও সমাজের কিছু অংশে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যুবসমাজকে নকশালপন্থী চিন্তা থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানান মোদী। তাঁর কথায়, মাওবাদ দেশের বহু মানুষকে হিংসার শিকার করেছে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশকে মাওবাদমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছিল তাঁর সরকার।এই বক্তব্যের পর বিরোধীদের একাংশের দাবি, সরকার আগেও সমালোচকদের ‘আরবান নকশাল’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বা ‘আন্দোলনজীবী’ ইত্যাদি শব্দে আক্রমণ করেছে। এবার ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধও সেই রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেসের একাংশের আশঙ্কা, প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয় নিয়ে ছাত্র ও যুবকদের আন্দোলনের আবহে এই ধরনের মন্তব্য প্রতিবাদীদেরও নিশানা করার ইঙ্গিত হতে পারে।চিদম্বরমের মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে মোদী ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। রিজিজুর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা মাওবাদীদের সমর্থন করে, সংবিধান মানে না, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ায় অথবা দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কাজ করে, তাদেরই এই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে থাকা শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করতেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন, সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই কি কাউকে দেশবিরোধী বা নকশালপন্থী বলে চিহ্নিত করা উচিত? ফলে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ নয়, বিরোধিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
Popular Categories


