বারুইপুরে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিপিএমের চার নেতার বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে বিজেপি। অভিযোগে নাম রয়েছে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, লাহেক আলি, মোনালিসা সিনহা এবং সইফুদ্দিন মণ্ডলের।
বিজেপির দাবি, এই নেতারা বিভিন্নভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর কাজে জড়িত ছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা, উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত তথ্য ছড়ানো এবং এলাকার শান্তি নষ্ট করার মতো একাধিক কাজের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে অশান্ত পরিবেশ তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে।
বারুইপুরের বিজেপি ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অরুণ প্রধান থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কয়েক দিন আগে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ, রেল অবরোধ এবং বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকটি সরকারি সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার মধ্যেই এক যুবককে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও অধিকার কারও নেই এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হবে।
মঙ্গলবার বারুইপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় কড়া অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো যুবকের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনও প্রমাণ মেলেনি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংগঠিত শক্তি এলাকায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টাও হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রয়োজনীয় কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এর কিছু ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে চার সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


