দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। চার্চে হামলা, সম্পত্তি ভাঙচুর এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে চাপ সৃষ্টি করার মতো ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন খ্রিস্টান সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
গত ৫ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রাম এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি চার্চে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একদল লোক চার্চ চত্বরে ঢুকে স্লোগান দিতে শুরু করে। এরপর চার্চের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালানো হয়। জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়, আসবাবপত্র নষ্ট করা হয় এবং প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত কিছু বাদ্যযন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। চার্চের ছাদে থাকা ক্রস খুলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনার পর এলাকায় বসবাসকারী খ্রিস্টান পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলায় আরও একটি ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। বার্নালি চট্টোপাধ্যায় নামে এক খ্রিস্টান বিধবার বাড়িতে কিছু লোক গিয়ে তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তাঁর সম্পত্তি অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির কিছু অংশও ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি দেখলেও কেউ বাধা দিতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলার ফরিদপুরে একটি চার্চে রবিবারের প্রার্থনা চলাকালীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গ্রেস চার্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাস্টর সুরজিৎ ঘোষ জানান, খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর এবং উসকানিমূলক কথা ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং এলাকার পরিবেশও অশান্ত হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রার্থনা চলার সময় কিছু লোক চার্চের সামনে জড়ো হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ওই সময় পাস্টর এবং কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তির উপর হামলাও করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চার্চে উপস্থিত মানুষদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলির পর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রুখতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।


