যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন এক সমাজকর্মী। বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ঘিরে বহু মানুষের জন্য খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। খেলা শুরু হওয়ার আগেই এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
নিহত ব্যক্তির নাম মহম্মদ আল ওয়াহিদি। তিনি একটি মিশরীয় সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছিলেন তিনি। গাজার একাধিক এলাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যাতে যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও মানুষ কিছুটা স্বস্তির মুহূর্ত খুঁজে পায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ির উপর হামলা হয়। ঘটনায় ওয়াহিদির পাশাপাশি আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলেও জানা গেছে। গাড়ির চালক প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি গুরুতর মানসিক ধাক্কা পেয়েছেন বলে খবর।
গাজার শিফা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াহিদি যে এলাকায় যাচ্ছিলেন সেখানে বহু মানুষ একত্রিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই হামলার শিকার হন তিনি। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কয়েকজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পর মিশর সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ওয়াহিদির কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। তিনি সম্পূর্ণ মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছে কায়রো।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আহত ও নিহতদের দেখতে পান। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে প্রথমে কারা আহত হয়েছেন, তা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে গাজায় সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এই দীর্ঘ সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বহু ক্রীড়াবিদও প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি এক প্যালেস্টাইনি ফুটবলারের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় আসে। তিনি নিজের পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে বাইরে বেরিয়ে আর ফিরতে পারেননি।
গাজায় চলতে থাকা এই সংঘাতের কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন মানবিক বিপর্যয়ের খবর সামনে আসছে। শিশুদের জন্য আনন্দের একটি আয়োজন করতে গিয়ে এক সমাজকর্মীর মৃত্যু সেই দীর্ঘ তালিকায় আরও একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় যোগ করল।


