যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মুখে থাকা ফিলিস্তিনিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার রাষ্ট্রসঙ্ঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনকে পৃথক ও স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সম্প্রতি ফিলিস্তিনের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় কমিশন এবং ফিলিস্তিনের প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অংশ নেন। ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন।
বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, ভারত বহু বছর ধরেই ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে রয়েছে। দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই কারণেই ভারত বরাবরই এমন একটি সমাধানের কথা বলে আসছে, যেখানে ইজরায়েল ও ফিলিস্তিন দুই স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং উভয়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত হবে।
শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন আরও বলেন, ফিলিস্তিনের উন্নয়নে ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে চলেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচিতে ভারতের অংশগ্রহণ রয়েছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্পও চালানো হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিলিস্তিনে নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো একাধিক প্রকল্পে ভারত সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ভবিষ্যতে পুনর্বাসন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে এই অবস্থান সামনে আসার কয়েক সপ্তাহ আগেই গাজা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধি। একটি জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় চলতে থাকা সংঘর্ষ ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার বিষয়ে ভারত যথেষ্ট সরব হয়নি। তাঁর মতে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ঐতিহ্যগত অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে কেন্দ্র।
তবে ব্রাসেলসের বৈঠকে ভারতের বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘে তাদের বৃহত্তর স্বীকৃতির প্রশ্নে নয়াদিল্লি এখনও সমর্থনের অবস্থানেই রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ওপরই জোর দিয়েছে ভারত।


