বিদেশে ভালো চাকরি পাওয়ার আশায় অনেকেই বিভিন্ন নিয়োগ সংস্থার দ্বারস্থ হন। সেই আশা ও বিশ্বাসকেই হাতিয়ার করে মহারাষ্ট্রের থানে জেলায় বড়সড় প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, বিদেশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১৩০-রও বেশি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়েছে। শুধু অর্থই নয়, বহু আবেদনকারীর পাসপোর্টও সংগ্রহ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কল্যাণ এলাকার একটি বেসরকারি নিয়োগ সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই সুযোগের কথা শুনে বহু যুবক-যুবতী সেখানে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরির প্রক্রিয়া শুরু করার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়া হয়। কেউ ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য, কেউ আবার নথি যাচাইয়ের খরচ বাবদ অর্থ জমা দেন। পাশাপাশি চাকরির কাগজপত্র তৈরির কথা বলে আবেদনকারীদের পাসপোর্টও জমা রাখা হয়। প্রথম দিকে সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও পরে ধীরে ধীরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এক চাকরিপ্রার্থীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। পরে সংস্থার অফিসে গিয়ে দেখেন সেটি বন্ধ। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সামনে আসে, একই কৌশলে আরও বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি এই ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চাকরির আশায় অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনও নিয়োগপত্র পাননি। উল্টে তাঁদের জমা দেওয়া টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ফেরত মেলেনি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতারণার অঙ্ক ইতিমধ্যেই ৫২ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকার বেশি। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোনও সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে চাকরির আবেদন করার আগে তার বৈধতা যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারকদের দ্রুত গ্রেফতার করে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার দেওয়ার দাবি উঠেছে।


