রাজ্যে সরকার বদলের পরও পশ্চিম মেদিনীপুরে রাজনৈতিক বিতর্ক থামছে না। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়, প্রভাব খাটানো এবং জরিমানার নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুরের অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। দীর্ঘদিন তৃণমূলের দখলে থাকা এই জেলায় শাসন পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের একাংশ নতুন প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের কিছুদিনের মধ্যেই শাসক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।পশ্চিম মেদিনীপুর রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জেলা হিসেবে পরিচিত। একসময় কেশপুর, গড়বেতা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল। পরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর এই জেলায় তাদের সংগঠনও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেই সময়ও জমি দখল, কাটমানি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছিল। এবার সরকার বদলের পর একই ধরনের অভিযোগ বিজেপির একাংশকে ঘিরে ওঠায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ উঠেছে, কিছু ব্যক্তি বিজেপির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। কোথাও জরিমানার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। পাশাপাশি দলের পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধও প্রকাশ্যে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সম্প্রসারিত সংগঠনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক নেতা দাবি করেছেন, দলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে এবং তার মধ্যে নতুন যোগ দেওয়া কিছু নেতার নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। তাঁর মতে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে জেলা নেতৃত্বকে আরও কঠোর হতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।অন্যদিকে, জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস জানিয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে বলে প্রচার করা হচ্ছে, তাঁদের কেউই বর্তমানে বিজেপির সক্রিয় সদস্য নন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নতুন করে কাউকে দলে নেওয়া হয়নি। কেউ যদি বিজেপির নাম ব্যবহার করে বেআইনি কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, চাঁদাবাজি বা বেআইনিভাবে অর্থ আদায় কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য সরকার অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ফলে পশ্চিম মেদিনীপুরে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের রাজনীতি অব্যাহত থাকায় জেলার পরিস্থিতি নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির
Popular Categories


