নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত মিছিল ও জমায়েত ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার জেরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা রুজু করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা আন্দোলনকারী ছাত্র বা সিজেপির সদস্য নন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে “জঙ্গিপনা” হয়েছে এবং পুলিশের উপর হামলা, সাংবাদিকদের নিগ্রহ ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের ভিড়ে বহিরাগতরা ঢুকে পড়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ধর্মতলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পতাকা, ব্যানার ও গাড়ি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন এবং বারবার সতর্ক করা হলেও এলাকা খালি করেননি। পুলিশের আরও দাবি, তাদের লক্ষ্য করে বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছোড়া হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ।
পুলিশের দায়ের করা মামলাগুলিতে বেআইনি জমায়েত, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, হামলা, রাস্তা অবরোধ, সরকারি নির্দেশ অমান্য, উসকানি ছড়ানো-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মামলাগুলির সঙ্গে গুন্ডাদমন আইনের ধারাও যুক্ত করা হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার আন্দোলনের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান জানিয়েছিল এবং পুলিশকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর দাবি, আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্য এবং বহিরাগতরাও উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের অনেকেরই নিট আন্দোলনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশকে উস্কে দিয়ে লাঠিচার্জ বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেয়নি। তিনি জানান, ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয় জন গুরুতর আহত বলে সরকারের দাবি।
বিধানসভায় বক্তব্যের সময় চার জন অভিযুক্তের নামও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ঘোষণা করেন, প্রতিবাদস্বরূপ বিজেপি বিধায়করা কালো ব্যাজ পরে কর্মসূচি পালন করবেন।


