রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস আমদানি করলে সংশ্লিষ্ট দেশের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে আমেরিকা। সম্প্রতি মার্কিন সেনেটে এই সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে। বর্তমানে বিলটি হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ্সে বিবেচনাধীন। সেখান থেকেও অনুমোদন পেলে তা আইনে পরিণত হবে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, আমেরিকার এই বিলের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখা হচ্ছে।
ভারত বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল ক্রেতা। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে ভারত। এই নীতিকে ঘিরে অতীতেও ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের কিছু পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিল। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বিষয়টির উপর নজর রাখছি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান আগেও একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানির প্রয়োজন বিবেচনা করেই আমদানি নীতি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমেরিকার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে ভারতের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন সেনেটে পাস হওয়া বিলে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটি সেনেটে ৮৬-১২ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এটি আইনে পরিণত হলে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়া এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। বিশেষ করে, রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস আমদানি করা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যে দেশগুলি রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।


