গাজায় চলতে থাকা হিংসা, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) চলা মামলার বিষয়টি BRICS-এর ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পেল। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত দিল্লি ঘোষণাপত্রে ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার রক্ষা এবং গাজায় দ্রুত মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
BRICS-এর সদস্য দেশগুলি গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা হিংসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের মানুষকে জোর করে গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনও উদ্যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের অন্যতম পথ। ১৯৬৭ সালের সীমারেখা অনুযায়ী সেই রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে BRICS। পূর্ব জেরুজালেমকে ওই রাষ্ট্রের রাজধানী করার কথাও বলা হয়েছে।
জেরুজালেমের আইনগত ও ঐতিহাসিক অবস্থান একতরফাভাবে বদলে দেওয়ার যে কোনও পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করেছে BRICS। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার কথাও ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছনোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন উঠেছে।
ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভা এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলি কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সাহায্য পৌঁছনোর পথে বাধা না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে BRICS।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও গাজায় হিংসা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের মানুষকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে তাঁদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনও পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে সদস্য দেশগুলি। গাজার ভৌগোলিক বা জনসংখ্যার কাঠামো বদলে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে।
BRICS-এর বক্তব্য, ইজরায়েল-ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সামরিক শক্তি দিয়ে সম্ভব নয়। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ফিলিস্তিনের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকারকে সম্মান জানানোও জরুরি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। গাজায় মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলেও দিল্লি ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।

