ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় প্রভাব পড়েছিল ভারতে। গত কয়েক মাসে একাধিকবার বেড়েছিল ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। তবে এবার ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি ও কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২০০ টাকারও বেশি কমানোর ঘোষণা করেছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২০২ টাকা কমিয়ে ২,৭২৮ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতায় ২০৯ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ২,৮৭২.৫০ টাকা। সংশোধিত মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
তবে এই মূল্যছাড় শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ব্যবহারের ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসেও একবার বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফার মূল্যহ্রাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দু’ঘণ্টার ওই বৈঠকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, জাহাজ প্রতিমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দেশে এলপিজি, পেট্রোল এবং ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের মোট আমদানিকৃত এলপিজির প্রায় ২৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য দেশ থেকে স্পট মার্কেটের মাধ্যমে এলপিজি আমদানি বাড়িয়েছে।


