গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়াতে নতুন নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর। ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি)-তে কর আদায় থেকে শুরু করে বকেয়া টাকা সংগ্রহের পদ্ধতি পর্যন্ত বিস্তারিত নিয়ম জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কর দেওয়ার সময়সীমা ঠিক হওয়ার পর তিন সপ্তাহের মধ্যে পঞ্চায়েতকে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। যাঁরা নির্ধারিত সময়ে কর দেবেন না, তাঁদের তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপরও ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া না মেটালে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।
পঞ্চায়েতের আর্থিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে দফতর। বর্তমানে একটি বাড়ি থেকে বছরে গড়ে প্রায় ২৩৩ টাকা কর পাওয়া যায়। সেই আয় বাড়িয়ে বছরে বাড়িপিছু ১২০০ টাকা করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।
কর আদায়ের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের পথ খোঁজার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তা, সেতু বা ফেরিঘাট থেকে টোল আদায়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞাপন, হোর্ডিং, পর্যটন, হোমস্টে এবং পঞ্চায়েতের নিজস্ব সম্পত্তি লিজ দিয়ে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
দফতরের মতে, পঞ্চায়েতের আয় বাড়লে গ্রামোন্নয়নের কাজ আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হবে। তাই সাধারণ মানুষকে কর দেওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে প্রচার চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যও। ২০২৮-২৯ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষে রাজ্য প্রায় ২৫২১ কোটি টাকা পেতে পারে। তবে সেই অর্থের জন্য পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়ানো জরুরি।প্রশাসনের আশা, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক কাঠামো আরও মজবুত হবে।


