দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিগুলিতে পড়ুয়াদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত পাঁচটি শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন আইআইটিতে অন্তত ৫৩ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৯ জন এসসি, এসটি এবং ওবিসি শ্রেণিভুক্ত বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার সূত্রপাত লোকসভায় করা একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আইআইটি-সহ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের জাতিগত বৈষম্যের মুখে পড়ার ঘটনা, আত্মহত্যা এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে কী তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কোর্সে পড়ুয়াদের ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চাওয়া হয়।সাংসদের প্রশ্নের পর কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট আইআইটিগুলির কাছে তথ্য সংগ্রহ করে। গত ১ ডিসেম্বর দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি নিলেশচন্দ্র শ্রীবাস্তবের তরফে প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিষয়ে তথ্য দিতে বলা হয়েছিল। আইআইটিগুলি তাদের কাছে থাকা পরিসংখ্যান পাঠায়। যদিও পরে সংসদে এই তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি। পরবর্তী সময়ে সেই নথি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসে।সরকারি তথ্য বলছে, ওই পাঁচ বছরে মোট ৫৩ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৯ জন এসসি, এসটি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের। মোট মৃত্যুর হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৫৪.৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ, শিক্ষার পরিবেশ এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।আইআইটিগুলির মধ্যে খড়্গপুর, দিল্লি এবং হায়দরাবাদে পড়ুয়াদের মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক ভাবে বেশি বলে পাওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ নজরে এসেছে আইআইটি হায়দরাবাদ। সেখানে সাতজন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গিয়েছে।তবে কোনও নির্দিষ্ট মৃত্যুর পিছনে কী কারণ কাজ করেছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকে সরাসরি জানা যাচ্ছে না। ফলে জাতিগত পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও শুধুমাত্র এই তথ্যের ভিত্তিতে টানা যায় না।আইআইটির মতো প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিয়ে এর আগেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। নতুন পরিসংখ্যান সামনে আসায় পড়ুয়াদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
Popular Categories

