বরাহনগরে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের ঘিরে পরপর অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একটি ঘটনায় দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়ার নামে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্য ঘটনায় গণেশ বিসর্জনে বেরিয়ে এক যুবককে মারধর করে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দুই ঘটনাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু করে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে বিজেপির অভিযুক্ত নেতারা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ২০ তারিখ রাতে গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বেরিয়েছিলেন রায়মোহন বন্দ্যোপাধ্যায় লেনের বাসিন্দা শুভ বিশ্বাস। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সৌমেন মিস্ত্রির নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে একটি গলির মধ্যে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁর বন্ধুরা আহত অবস্থায় শুভকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে বাইপাস এলাকার একটি নার্সিংহোমের আইসিইউতে তাঁর চিকিৎসা চলছে।এই ঘটনায় সৌমেন মিস্ত্রি-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শুভর বাবা মনা বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছিল। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৌমেন। তাঁর বক্তব্য, আরআইসি বাজারে মাদক সেবনের একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই ঝামেলা চলছিল। তাঁর দাবি, এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে শুভদের গোলমাল হয় এবং ওই ব্যবসায়ীর পরিচিতরাই পরে হামলা করেন। তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।অন্যদিকে, কুঠিঘাট এলাকায় চপের দোকান বসানো নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। পুরনো থানার কাছে একটি পার্কের সামনে গুমটি বসাতে এক দোকান মালিকের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিজেপির দুই স্থানীয় নেত্রী শুক্লা হালদার ও সরিতা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন দোকানের মালিক গুড়িয়া পাঠক। গুড়িয়ার দাবি, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীকে সেখানে ডেকে আনা হয়। এরপর তাঁকে মারধর করা এবং দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।তবে এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতারা। সঞ্জয়ের দাবি, রাস্তার জায়গা দখল করে দোকান বসানোর চেষ্টা হচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই কারণে দলের দুই নেত্রী আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই বিরোধ থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
বরাহনগরে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ,গুমটি বসানোর নামে চাওয়া হলো ৫০ হাজার টাকা
Popular Categories


