উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হিন্দু রক্ষা দল নামে একটি সংগঠন দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের নিচে শিবলিঙ্গ রয়েছে। সেই দাবিকে সামনে রেখে আগামীকাল দারুল উলুমে গঙ্গাজল নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের উত্তরাখণ্ড শাখার সভাপতি ললিত শর্মা শনিবার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে এই কর্মসূচির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরিদ্বার থেকে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে দেওবন্দে নিয়ে যাওয়া হবে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা হিন্দু রক্ষা দলের জাতীয় সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরীর।
ললিত শর্মার দাবি, দারুল উলুমের চত্বরে আগে একটি শিবমন্দির ছিল। তাঁর আরও অভিযোগ, এই বিষয়ে অতীতে সাহারানপুর জেলা প্রশাসনের কাছে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সেই কারণেই এবার সংগঠনের সদস্যরা নিজেরাই সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি জানান।
তবে সংগঠনের এই ঘোষণার পরই সতর্ক হয়েছে স্থানীয় পুলিশ। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও ভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেওয়া হবে না। দেওবন্দের সার্কেল অফিসার অমিত কুমার সিং জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যদি পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে আগামীকালের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দারুল উলুম দেওবন্দ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরিচিত ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র। ১৮৬৬ সালে এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের কাছে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দেওবন্দ। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে দাবি-পাল্টা দাবিকে ঘিরে এর আগেও একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং মথুরার শাহী ইদগাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এবার সেই তালিকায় দারুল উলুমের নাম উঠে আসায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।


