লোকসভায় রাজ্যগুলির আসন নতুন করে ভাগ করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সরব হল তামিলনাড়ু সরকার। বুধবার রাজ্য বিধানসভায় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়ানো হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যেতে পারে। তাই কোনওভাবেই এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।প্রস্তাব পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, দক্ষিণের রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়েছে। সেই নীতির ফল হিসেবে এখন তাদের লোকসভায় আসন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তা ন্যায্য হবে না। তাঁর দাবি, উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে মোট চারটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩-তেই স্থায়ী রাখা হোক। দ্বিতীয়ত, রাজ্যগুলির মধ্যে আসন ভাগ করার বর্তমান ব্যবস্থা আপাতত পরিবর্তন না করা হোক। তৃতীয়ত, জনসংখ্যা এবং রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের মধ্যে যে বর্তমান ২.২:১ অনুপাত রয়েছে, তা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে। চতুর্থত, ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটেও ৫৪৩টি আসন ধরেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বিজয় আরও বলেন, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি কেন্দ্রের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নীতি মেনে কাজ করেছে। তাই সেই রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেওয়া হলে তা এক ধরনের শাস্তি দেওয়ার মতো হবে। তাঁর মতে, উন্নয়ন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল করা রাজ্যগুলিকে কোনওভাবেই এর জন্য ক্ষতির মুখে পড়তে দেওয়া উচিত নয়।বিধানসভায় মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। বিজয়ের বক্তব্য, ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা দরকার। তামিলনাড়ুতে ভোটদানের ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো কোনও দয়া বা সুযোগ নয়, এটি সামাজিক ন্যায়ের অংশ।এর আগে নিট এবং এফসিআরএ-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধেও বিধানসভায় প্রস্তাব এনেছিল তামিলনাড়ু সরকার। এবার লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়েও তাদের কড়া অবস্থান সামনে এল। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ও দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Popular Categories


