নদিয়ার তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। বৃহস্পতিবার অনাস্থা ভোটে সিপিএমের সভাপতি ইমরান শেখের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব বিপুল ব্যবধানে পাশ হয়েছে। বিজেপির আনা এই অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে তৃণমূল। ভোটের ফল দাঁড়ায় ১৯-০। এর ফলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে হল ইমরানকে।
তবে ভোটের আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমরান। বুধবার তিনি তেহট্টের মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার পরের দিনই তেহট্ট-১ ব্লক অফিসে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
৩৩ আসনের তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির ১৩ জন, তৃণমূলের ৯ জন, সিপিএমের ৯ জন এবং কংগ্রেসের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস একসঙ্গে বোর্ড গঠন করে। সেই বোর্ডে সভাপতি হন সিপিএমের ইমরান শেখ এবং সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান তৃণমূলের উত্তম বিশ্বাস।
কিন্তু কয়েক মাস পরেই বোর্ডের অভ্যন্তরে টানাপড়েন শুরু হয়। গত জুলাইয়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিজেপি। প্রশাসনিক কারণে ভোটের দিন একাধিকবার পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ভোট নেওয়া হয়।
এদিন ৩৩ সদস্যের মধ্যে বিজেপির ১৩ জন এবং তৃণমূলের ৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ইমরান শেখ এবং সহ-সভাপতি উত্তম বিশ্বাস সভায় আসেননি। উপস্থিত ১৯ জন সদস্যই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ফলে সর্বসম্মতভাবেই প্রস্তাবটি পাশ হয়ে যায়।
ভোটের পর নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস জানান, পরবর্তী সময়ে নতুন সভাপতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, আজ শুক্রবার সহ-সভাপতি উত্তম বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও অনাস্থা ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তিনিও ইতিমধ্যে বুধবার মহকুমা শাসকের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।


