দেশের বাজারে চিনির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্ক ছাড়াই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই সুবিধা থাকবে। উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার আগে বাজারে চিনির জোগান বাড়ানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
ভারতে গত দু’মাসে চিনির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় এক দশক পর ফের বিদেশ থেকে চিনি আনার পথে হাঁটছে ভারত। সাধারণত চিনির আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এবার নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানিতে সেই শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই ঘোষণার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়েছে। খবর প্রকাশ্যে আসার পর লন্ডনে সাদা চিনির ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম এবং নিউইয়র্কে কাঁচা চিনির দামে এক সময় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি দেখা যায়। ভারতের মতো বড় ক্রেতা দেশ বিদেশ থেকে বেশি চিনি কিনতে পারে—এই সম্ভাবনাই বাজারে দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে দেশের বন্দরভিত্তিক চিনি শোধনাগারগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। এই সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে কাঁচা চিনি এনে তা পরিশোধন করে সাদা চিনি তৈরি করে। এতদিন সেই চিনি মূলত বিদেশে রফতানি করা হত। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ইতিমধ্যে আমদানি করা কাঁচা চিনি থেকে তৈরি পরিশোধিত চিনি দেশের বাজারেও বিক্রি করা যাবে।
এক ব্যবসায়ীর মতে, এর ফলে দ্রুত প্রায় ৩ লক্ষ টন চিনি দেশের বাজারে আসতে পারে। তবে অন্য এক ব্যবসায়ীর দাবি, নতুন করে আমদানি করা কাঁচা চিনির বড় অংশ ব্রাজিল থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জাহাজে করে সেই চিনি ভারতে পৌঁছতে প্রায় দু’মাস সময় লাগতে পারে। ফলে নতুন আমদানির প্রভাব বাজারে অক্টোবরের দিকে বেশি বোঝা যাবে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, কাঁচা চিনি থেকে সাদা চিনি তৈরির সক্ষমতা রয়েছে এমন মিল ও শোধনাগারগুলিকে ২১ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আমদানি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সংস্থাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বোম্বে সুগার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক জৈনের মতে, বিদেশ থেকে চিনি আনার সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে দাম আরও দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা থামতে পারে।


