ইজরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চরম মানবিক সঙ্কটের মুখে ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষেরা। বিশেষ করে গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়ে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে ভারত। ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ২০০ শয্যার একটি আধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।
হাসপাতাল তৈরির বিষয়ে ভারত ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সমঝোতাও চূড়ান্ত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে হাসপাতাল তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি উন্নতমানের জরুরি পরিষেবাও থাকবে। হাসপাতালের সঙ্গে একটি বিশেষ ট্রমা কেয়ার কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের বাসিন্দারাই নন, আশপাশের জেনিন, তুলকারম এবং তুবাস এলাকার মানুষও এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে আহত এবং গুরুতর অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় এই হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার রামাল্লায় ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ মুস্তাফার সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। গাজার বর্তমান মানবিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। গাজায় অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাবও ভারতের তরফে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ভারত। ফিলিস্তিনের জাতীয় ছাপাখানায় একটি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির জন্য চুক্তি হয়েছে। সেখানে মুদ্রণশিল্প এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনের অনুরোধে ক্যান্সারের ওষুধ-সহ বেশ কিছু জরুরি ও জীবনদায়ী ওষুধও পাঠিয়েছে ভারত। যুদ্ধের কারণে আহতদের পুনর্বাসনের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের একটি শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল নয়াদিল্লি।
দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত-প্যালেস্তাইন টেকনো পার্কের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, ব্যবসায়ী এবং তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং নতুন প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ফিলিস্তিনিয় মহিলাদের প্রশিক্ষণ ও স্বনির্ভর করে তোলার জন্য ‘তুরাথি’ প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে। ভারতীয় সহায়তায় ফিলিস্তিন ইনস্টিটিউট অফ ডিপ্লোমেসি তৈরির কাজও চলছে। সেখানে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনিয় কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ভারত।


