গাজা অভিমুখে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া জাহাজ আটকানোর ঘটনায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্কের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে ‘রেড কর্নার’ নোটিস জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় ইজ়রায়েল ও তুরস্কের মধ্যে চলতে থাকা উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।গাজ়ার সাধারণ মানুষের কাছে খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে কয়েকটি জাহাজ রওনা হয়েছিল। ইজ়রায়েলি নৌবাহিনী সেই জাহাজগুলিকে আটকে দেয়। ইজ়রায়েলের বক্তব্য ছিল, ওই জাহাজগুলি নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাজ়ায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল। পরে জাহাজে থাকা কয়েক জন আন্দোলনকারী ও স্বেচ্ছাসেবককে আটক করা হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তুরস্কে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। তুরস্কের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ত্রাণবাহী জাহাজের যাত্রীদের সঙ্গে বেআইনি আচরণ করা হয়েছে এবং তাঁদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে ইজরায়েলি বাহিনীর ভূমিকার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর নির্দেশের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।তুরস্কের তদন্তকারী পক্ষের অভিযোগ, জাহাজগুলিকে আটক করা এবং তাতে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পিছনে ইজরায়েল সরকারের শীর্ষ স্তরের অনুমোদন ছিল। সেই সূত্রেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিষয়টি জানাতে ইন্টারপোলের কাছে রেড কর্নার নোটিসের আবেদনও করা হয়েছে।তবে তুরস্কের আদালতের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ ইজরায়েল। তাদের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, গাজার দিকে যাওয়া জাহাজ আটকানোর ক্ষেত্রে তাদের নৌবাহিনী যে পদক্ষেপ করেছে, তা দেশের নিরাপত্তা এবং প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই তুরস্কের আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছে ইজ়রায়েল।নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এল, যখন ইজরায়েল ও তুরস্কের সম্পর্ক আগে থেকেই অত্যন্ত খারাপ। গাজ়া যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দীর্ঘদিনের। তুরস্ক বার বার ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে। অন্য দিকে, ইজ়রায়েলও তুরস্কের অবস্থানের বিরোধিতা করেছে।বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই গ্রেফতারি পরোয়ানা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি নেতানিয়াহু বা ইজ়রায়েলের শীর্ষ কর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও আইনি ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস জারি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।
Popular Categories


